সরকারি প্রকল্পে ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতে আলোচনায় থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প (Rooppur Nuclear Power Plant)–এর ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’র পর আবারও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর (Public Works Department)-এর আট কর্মকর্তা।
আগামী ১৫ মার্চ তাদের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। যদিও এর আগে একাধিকবার সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়েছিল। এদিকে দেশের রংপুর বিভাগসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই সফরে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম কোম্পানি ডানহাম-বুশ (Dunham-Bush) এই সফরের খরচ বহন করছে।
জানা গেছে, হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকও রয়েছেন। সফরের অফিসিয়াল প্রোগ্রামের নাম ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’।
২০১৯ সালে আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এইচভিএসি সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য এই বিদেশ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার জন্য অনুমতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, “আমরাই তো এইচভিএসি সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকব। তাই প্রশিক্ষণে যাওয়াটা প্রয়োজনীয়।”
তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
