রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিতর্ক: মো. শাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি ‘জুলাই ঐক্য’র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin)। তবে তার ভাষণের জন্য নাম ঘোষণা করা মাত্রই সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জুলাই ঐক্য (July Oikko)।

সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের। জুলাই-আগস্টের সেই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের গু’\লিতে প্রা’\ণ হা’\রিয়েছেন ১৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা এবং হাজার হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সেই সরকারের নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) ভাষণ দিয়ে জনতার সংসদকে অপবিত্র করছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও তিনি বারবার শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে দাবি করা হয়। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, যে সংসদে শহিদের রক্ত মাড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বসেছে, সেখানে শেখ হাসিনার নিয়োগকৃত কোনো রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা ১১০টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চা ‘জুলাই ঐক্য’ মনে করে, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-এর আদর্শ এবং শহিদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে গু’\ম-খু’\নের শিকার হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বারবার উপেক্ষা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিএনপি ‘জুলাইয়ের শপথ’ গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ ছাত্র-জনতা আশা করেছিলেন নতুন স্পিকারের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি শপথ নেবে। কিন্তু তা না করে উল্টো রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ভাষণ দেওয়ানো হয়েছে।

বিএনপির প্রতি ‘জুলাই ঐক্য’র বার্তায় বলা হয়, ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের সংসদ গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি দাবি করে, জুলাইয়ের আন্দোলন না হলে তারেক রহমানসহ তার পরিবারকে প্রবাসেই থাকতে হতো এবং অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী কারাবন্দি বা নিখোঁজ অবস্থায় থাকতেন।

বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সরকারকে সতর্ক করে বলা হয়, শেখ হাসিনার সংসদ ও ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে দিতে জনগণের বেশি সময় লাগেনি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জনতার শক্তিতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছিল। তাই জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি ফ্যাসিবাদের মতোই হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

‘জুলাই ঐক্য’ অবিলম্বে সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন (Impeachment) করে অপসারণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলুপ্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যে ছাত্র-জনতা অতীতে কোনো বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করেছে, তারাই প্রয়োজনে রাজপথে আবারও গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।