ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি কারিগরি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার নথি ও খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হরিপুর মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ‘আয়া’ ও ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী’ পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় মোট আট প্রার্থী অংশ নেন। ফলাফল যাচাই ও মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কলেজের অধ্যক্ষ ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা ইউএনও রায়হানুল ইসলামের কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার পর কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, “পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনওর রুমে বসে নথিপত্র দেখছিলাম। হঠাৎ বিএনপি নেতা জামাল ও তার লোকজন রুমে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমাদের হাত থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমরা এখন থানায় গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।”
ইউএনও রায়হানুল ইসলামের বক্তব্যে জানা গেছে, “যথাযথ নিয়ম মেনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। নিরীক্ষক দল আমার কক্ষে বসে মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার অনুসারীরা ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং জোরপূর্বক সব পরীক্ষার খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, “আমরা কোনো কাগজপত্র ছিনিয়ে আনিনি। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূলত আওয়ামী লীগ পরিচালিত। আমাদের ছেলেরা প্রতিবাদ করলে ইউএনও তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মূলত ইউএনও জামায়াতের লোক হওয়ার কারণে আমাদের দোষ চাপানো হচ্ছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হরিপুর থানার ওসি আবদুল হাকিম আজাদ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
