প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা—সামর্থ্য নয়; স্বাস্থ্যসেবা মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা রহমান

আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের প্রতিটি মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবে—এমন লক্ষ্য নিয়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (Ziaur Rahman Foundation)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা—ইউনিভার্সেল হেলথ—বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোচ্ছে। তার ভাষায়, চিকিৎসা খরচ মেটাতে মানুষ যেন সর্বস্বান্ত না হয়; বরং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিটি মানুষ চিকিৎসা পাবে তার প্রয়োজন অনুযায়ী, সামর্থ্য অনুযায়ী নয়।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (Doctors Association of Bangladesh – DAB) আয়োজিত দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman), সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia), স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহিদ এবং শহিদ জুলাই যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হবে এবং এগুলোকে মা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে যেন আর কোনো মানুষ জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করে—সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ফলে ২৪ ঘণ্টা রোগী পরিবহন ও জরুরি সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে।

ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার মেডিকেল কলেজ ও স্নাতকোত্তর ইনস্টিটিউটগুলোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত প্রত্যেকের জন্য থাকবে সুসংগঠিত কর্মজীবন পরিকল্পনা। নার্স, মিডওয়াইফ, প্যারামেডিক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের জন্য আলাদা ক্যারিয়ার কাঠামো তৈরি করা হবে এবং যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সচেতনতা সৃষ্টি, উৎসে পৃথকীকরণ, নিরাপদ পরিবহন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান।

সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলো সফল করতে সবার আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতা প্রয়োজন। বিশেষায়িত মেডিকেল শিক্ষায় শিক্ষিতরা যদি সংকল্পবদ্ধ হয়ে কাজ করেন, তাহলে জনগণের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পুরোপুরি সফল না হলেও চেষ্টা যেন কোনোভাবেই কম না হয়—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বুকল (Sardar Md. Sakhawat Hossain Bukul) বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করতে চিকিৎসকদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের সেবার মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানান।

ড্যাবের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসকদের সঠিক সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে নিয়মিত চিকিৎসা প্রদানের আহ্বান জানানো হয় এবং চিকিৎসকদের ন্যায্য দাবিদাওয়া পূরণে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।