তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান জানিয়েছে, প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ নয়; এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১৫ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত। শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ ছাড়া।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের মিত্র দেশগুলোকে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে। এমন সময়েই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে এলো।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আরাগচি বলেন, ন্যায্যভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারে—এমন যেকোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানায়। তবে এখন পর্যন্ত সংঘাত বন্ধে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ আলোচনার টেবিলে আসেনি।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাত্রা ইতোমধ্যে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদেরই এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় ও সহায়তা দেবে যাতে জাহাজ চলাচল দ্রুত এবং নিরাপদভাবে চালু রাখা যায়।
ট্রাম্প তার পোস্টে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তবে এসব দেশের কেউই এখন পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি।


