‘দলীয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসক নিয়োগ অগণতান্ত্রিক’—সরকারকে কড়া বার্তা সারজিস আলমের

দলীয় বিবেচনায় জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগকে সরাসরি অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয় নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যখন মাত্র একটি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করেছিল, তখন সেটিকেই গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখেছিল বিএনপি। কিন্তু এখন দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক’।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, তখন যদি একটি নিয়োগে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে এখন একযোগে এতগুলো জেলা পরিষদে দলীয় নিয়োগ দেওয়া হলে সেটিকে কেন একইভাবে দেখা হচ্ছে না।

সারজিস আলম মনে করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখাই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য জরুরি। তাঁর মতে, নির্বাচিত সরকারের অধীনে দ্রুত সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। এতে জনগণের প্রতিনিধিরাই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং প্রশাসনিক কাঠামোও আরও জবাবদিহিমূলক হবে।

তিনি আরও বলেন, দলীয় লোকজনকে প্রশাসকের পদে বসানোর মাধ্যমে দেশে লুটপাটের রাজনীতি টিকে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল প্রথমে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের প্রশাসকের পদে বসাবে, এরপর তাদের মাধ্যমে সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী তৈরি করবে। পরে সেই শক্তিকে ব্যবহার করেই স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হবে।

এই প্রক্রিয়াকে তিনি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, প্রশাসনিক নিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব তৈরি করে পরে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

পোস্টের শেষ অংশে সারজিস আলম সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—বিএনপি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে, নাকি কিছু ‘অতি চালাক’ পরামর্শদাতার প্রভাবেই স্বৈরাচারের পথে এগোবে।

সারজিস আলম মন্তব্য করেন, এমন রাজনৈতিক নীলনকশা বাস্তবায়িত হলে তা গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।