মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকা দ্রুত ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেসব এলাকা অবিলম্বে ত্যাগ করুন, যাতে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়।” পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে তারা এটিকে ‘জোরালো পরামর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শুধু সতর্কবার্তাতেই থেমে থাকেনি বাহিনীটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সেনাদের ‘যেখানেই পাওয়া যাবে’, সেখানেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা আইআরজিসির ‘পবিত্র দায়িত্ব’ হিসেবে বিবেচিত হবে—যা এই সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে বিবিসি বাংলা (BBC Bangla)-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতভর ইরানজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (Israel Defense Forces) শুক্রবার সকালে জানায়, তারা তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইয়াজদ অঞ্চলে সামুদ্রিক মাইন তৈরির একটি স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় শহর নেতানিয়ার আকাশে রকেটের ধোঁয়ার রেখা দেখা গেছে, যা সংঘাতের তীব্রতারই ইঙ্গিত দেয়।
লেবাননের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে কুয়েতের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দরে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় কিছু পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রা’\ণহা’\নির খবর পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অস্থির। বিভিন্ন ফ্রন্টে হামলা-পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতা যে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—সে আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠছে।


