ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র: ৫০ অঙ্গরাজ্যে একযোগে ‘স্বাধীনতার নতুন লড়াই’

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একযোগে রাস্তায় নেমে আসেন তারা, যা অনেকের কাছে ‘স্বাধীনতার জন্য নতুন লড়াই’ হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে।

রোববার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি (BBC)। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ এপ্রিল) দেশজুড়ে এই সমন্বিত কর্মসূচি পালিত হয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘৫০৫০১’—অর্থাৎ ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৫০টি প্রতিবাদ, এক আন্দোলন।

এই কর্মসূচি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর ২৫০তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিল রেখে আয়োজন করা হয়। তাই অনেক প্রতিবাদকারী ‘নো কিংস’ লেখা পোস্টার বহন করেন, যা ইংরেজ রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবী চেতনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বিক্ষোভের মূল ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল অভিবাসন নীতি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত। হোয়াইট হাউসের সামনে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বড় শহরের কেন্দ্রস্থল, এমনকি কিছু টেসলা শোরুমের সামনেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদকারীদের অন্যতম দাবি ছিল কিলমার আবরেগো গার্সিয়া নামে এক অভিবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনা। তিনি ভুলবশত এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গিহাদ এলজেন্দি সিএনএন (CNN)-কে বলেন, “ট্রাম্প চাইলে এল সালভাদরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে গার্সিয়াকে ফিরিয়ে আনতে পারতেন।”

একই সঙ্গে ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডিওজিই)’ নামের একটি সরকারি প্রকল্পের বিরুদ্ধেও সরব হন বিক্ষোভকারীরা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি ব্যয় এবং চাকরি কমানো, যা অনেকেই গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

যদিও অধিকাংশ জায়গায় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। একটি ঘটনায় ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামানিয়াম এক ট্রাম্প-সমর্থকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ম্যাসাচুসেটসের লেক্সিংটন ও কনকর্ড যুদ্ধের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও এই আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়। সেখানে অংশ নেওয়া টমাস ব্যাসফোর্ড বলেন, “এটি আমাদের স্বাধীনতার জন্য আরেকটি কঠিন সময়। নতুন প্রজন্মকে বোঝাতে হবে—এই দেশ কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং প্রয়োজনে স্বাধীনতার জন্য আবারও লড়াই করতে হয়।”

এদিকে জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে দেখা যাচ্ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, তার জনপ্রিয়তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার সময় ছিল ৪৭ শতাংশ। যেখানে ১৯৫২ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রথম কোয়ার্টারের গড় জনপ্রিয়তা ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।

অন্যদিকে অর্থনীতি নিয়েও জনসন্তুষ্টি কমেছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৭ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট, যা জানুয়ারিতে ছিল ৪২ শতাংশ।

তবে এই বিক্ষোভকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় বলা হচ্ছে না। কারণ চলতি এপ্রিলের শুরুতেই ‘হ্যান্ডস অফ’ শিরোনামে আরও বৃহত্তর বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১২০০টি স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতেই অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেটিকেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।