যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf)।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আরোপিত এই যুদ্ধ এখন এক সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামরিক উত্তেজনা যেকোনো সময় আরও বিস্ফোরক রূপ নিতে পারে। তার দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান চালায়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধেও।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি (Fatemeh Mohajerani) তুলেছেন ভিন্ন সুর। তিনি জানিয়েছেন, ইরান এখনো টেকসই শান্তির পথ খোলা রাখতে চায়। তবে সেই আলোচনায় থাকতে হবে বাস্তবতার প্রতিফলন—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি।
তার ভাষায়, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি, কিন্তু এর ধ্বংসযজ্ঞ বহন করতে হচ্ছে দেশটিকেই। হামলায় শত শত ইরানি নাগরিক নি’\হত হয়েছেন, এমনকি উচ্চপর্যায়ের নেতারাও প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংস হয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ নয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)-এর নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত। তার মতে, এই তিনটি ইস্যু ছাড়া কোনো আলোচনাই পূর্ণাঙ্গ বা কার্যকর হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যখন যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক বার্তা ও পাল্টা বার্তা—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত অবস্থানই প্রমাণ করে, সংঘাতের পাশাপাশি দরকষাকষির মঞ্চও সমানতালে প্রস্তুত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি


