আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হ’\ত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১২৫ বার প্রতিবেদন দাখিলের দিন পরিবর্তন হলো—যা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম (Ariful Islam) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৭ মে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করেন।
এর আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল নির্ধারিত দিনে সশরীরে আদালতে হাজির হন তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক (Md. Azizul Haque)।
তিনি আদালতে দুই পাতার একটি লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি এখন একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তাধীন, যেখানে একাধিক সদস্য কাজ করছেন। এই সমন্বিত তদন্ত প্রক্রিয়ার কারণেই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে নৃশংসভাবে হ’\ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ, এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন, আর পলাশ রুদ্র পাল জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছেন। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্ত শুরুতে সংশ্লিষ্ট থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) দায়িত্বে ছিলেন। তবে চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এই হ’\ত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (DB)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় সংস্থাটি।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন তদন্তের পরও অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র্যাবকে সরিয়ে দিয়ে নতুন উদ্যোগ নেয়।
এরপর বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয় আদালত। ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বর্তমানে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এই টাস্কফোর্স তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তের চূড়ান্ত ফল না আসায় ভুক্তভোগী পরিবার ও জনমনে হতাশা বাড়ছে।
