সৈন্যসংকটে সতর্কবার্তা: জনবল না বাড়ালে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা ইসরায়েলি বাহিনীতে

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ (IDF))-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির (Eyal Zamir) স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন—চলমান সৈন্যসংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে বাহিনী বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। বুধবার (১ এপ্রিল) আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এই উদ্বেগ তুলে ধরেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে আইডিএফ কয়েক হাজার সৈন্য হারাতে পারে। এই সম্ভাব্য ঘাটতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামির।

তিনি প্রস্তাব করেন, পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার মেয়াদ বাড়ানো, রিজার্ভ বা সংরক্ষিত বাহিনীর কাঠামোতে সংস্কার আনা এবং একটি ‘যুগোপযোগী’ নিয়োগ আইন দ্রুত পাস করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও বড় আকারের সেনাবাহিনী গঠনের বিকল্প নেই।

এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইসরায়েল সরকার কট্টরপন্থি হারেদি বা অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। জামির মনে করেন, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান সংকট আরও তীব্র হবে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার মেয়াদ ৩০ মাস নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আগামী বছর থেকে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হলে সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই মেয়াদ আবার ৩৬ মাসে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন, যদিও সরকার এখনো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জামির সতর্ক করে বলেন, এই ঘাটতির কারণে কয়েক হাজার সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং যুদ্ধ-সহায়তাকারী সেনার অভাব দেখা দেবে। এর ফলে সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং তাদের বারবার অতিরিক্ত সময়ের জন্য তলব করতে হবে। এতে শুধু বাহিনীর সক্ষমতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় ১২ হাজার নতুন রিক্রুটের জরুরি প্রয়োজন অনুভব করছে, যাদের অধিকাংশই লড়াকু যোদ্ধা হিসেবে কাজ করবে। গত দুই বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংঘাত নিয়মিত ও সংরক্ষিত—উভয় বাহিনীর ওপরই ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করেন আইডিএফ প্রধান।

অন্যদিকে, সরকারি একটি প্রস্তাবিত বিলের মাধ্যমে কট্টর অর্থোডক্স শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে ব্যাপক ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ সেনাবাহিনীর ভেতরে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি সামরিক সেবার যোগ্য হলেও তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে না। ফলে নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

এর আগেও মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপকমিটির সভায় এই সৈন্যসংকট নিয়ে ‘লাল সংকেত’ দিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন—সামরিক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধি, রিজার্ভ কল-আপ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং একটি কার্যকর নিয়োগ আইন—দ্রুত পাস করার ওপর জোর দিয়েছেন।

চিঠির উপসংহারে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বছরগুলোতে আইডিএফ-এর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও মিশনের পরিধি আরও বাড়বে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর আকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে সরকার যদি হারেদিদের অব্যাহতির নীতিতে অনড় থাকে, তাহলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক গভীর জনবল সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল (The Times of Israel)