গোপন সামরিক শক্তির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নাগালের বাইরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে কড়া বার্তা দিল ইরান (Iran)। দেশটি দাবি করেছে, তাদের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কেন্দ্রগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েল (Israel)-এর নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র এই তথ্য জানান। তার ভাষায়, ইরানের সামরিক উৎপাদন কার্যক্রম এমন গোপন ও সুরক্ষিত স্থানে পরিচালিত হয়, যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কেই শত্রুপক্ষ অন্ধকারে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব স্থানে প্রবেশাধিকার তো দূরের কথা, ভবিষ্যতেও কখনো এমন সুযোগ পাবে না প্রতিপক্ষরা।

মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের তথ্যে রয়েছে গুরুতর ঘাটতি, আর ইরানের প্রকৃত কৌশলগত শক্তি সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, দূরপাল্লার আক্রমণকারী ড্রোন, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম—এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার যেকোনো প্রচেষ্টা ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে। তার দাবি, যেসব স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে বলে প্রতিপক্ষ মনে করছে, সেগুলো আসলে সামগ্রিক সক্ষমতার তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “শত্রুদের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও কৌশলগত সরঞ্জামের হিসাব করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এমন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের মতো গর্বিত, সম্মানিত ও মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালালে তার চরম মূল্য দিতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ইঙ্গিত দেন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে এই লড়াই চলবে বলেও জানান তিনি—যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ স্থায়ীভাবে অপমানিত হয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ভবিষ্যতে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে আরও শক্তিশালী, আরও বিস্তৃত এবং আরও ধ্বংসাত্মক।