“হাসিনা ছাড়া সবই দরকার”—সংসদে ও ফেসবুকে হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্যে রাজনৈতিক আলোড়ন

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ (Hasnat Abdullah) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের হাসিনা ব্যবস্থার সবকিছুই দরকার, শুধু হাসিনা ছাড়া।”

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংক্ষিপ্ত এই বক্তব্যটি ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেওয়া আরেকটি পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, সরকার পক্ষ গণভোটসহ মোট ১০টি অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব এসেছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ইস্যুতেও জাতীয় সংসদে সরব হন তিনি। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের সংকট এবং জনভোগান্তি নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না।

সম্পূরক প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক দিন আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে তেলের কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে পাম্প বন্ধ থাকায় সড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং অনেক জায়গায় শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমস্যাটি স্বীকার না করে বরং এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি সরাসরি জানতে চান, সরকার আদৌ এই সংকট স্বীকার করছে কি না এবং এর সমাধান কবে আসবে।

জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (Iqbal Hasan Mahmud) বলেন, প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি তেল দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনাকে দায়ী করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ঘটনার পর হঠাৎ করে তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করতে দেড় থেকে দুই দিন সময় লাগত, এখন তা দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তেল কিনছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।