ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা হ’\ত্যা ঘিরে উত্তেজনা, পিন্টুর ফেসবুক পোস্টে বাড়ছে বিতর্ক

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগকে হ’\ত্যার ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পরপরই বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু (Zakaria Pintu)-র একাধিক ফেসবুক পোস্ট নতুন করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে হ’\ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেন তিনি। এসব পোস্টে তিনি ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ঈশ্বরদীর রাজনীতির অভিশাপ নাড়া বাবলু পরিবার। ৯৩ সাল থেকে জ্বালাচ্ছে। নয় বার আমাকে হ’\ত্যার চেষ্টা করেছে। আমি ডকুমেন্ট রেখে কথা বলি। ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে। ডু আর ডাই।’
আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘একটা লাশের বদলে দশটা লাশ চাই। মাফিয়া হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখেই তো লড়েছি।’

এছাড়া তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখেন, তিনি দেশে না থাকা অবস্থায় ঈশ্বরদী থানার নেতাকর্মীরা যেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে পুলিশ সম্পর্কেও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি।

নি’\হত ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং ঈশ্বরদী উপজেলা ‘জিয়া সাইবার ফোর্স’-এর সদস্যসচিব ছিলেন। তিনি পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টার দিকে পৌর শহরের সাঁড়াগোপালপুর স্কুলের পাশে একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন সোহাগ। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি এসে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কু’\পিয়ে ও গু’\লি করে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃ’\ত্যু হয়।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, নি’\হতের মাথায় ধারালো ও ভারী অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রে’\ফতার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশ (Pabna District Police)-এর সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে ক্রাইম সিন নিয়ে কাজ করছি। পুলিশকে হ’\ত্যার হুমকি দিয়ে ফেসবুক পোস্টের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবীব ও জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ চলে আসছে। গত ২৩ মার্চও দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে জাকারিয়া পিন্টুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।