গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের পর আন্দালিব রহমান পার্থ (Andalib Rahman Partha)-কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
গত ৩১ মার্চ সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিরোধী দলকে প্রশ্ন করেন, ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়নি। তিনি বলেন, নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন না করে পুরোনো সংবিধানের ভেতরে থেকেই সেটিকে বাতিল করার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়।
পার্থ আরও মন্তব্য করেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চায়। তার এই বক্তব্যের কড়া জবাব দেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানও তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পার্থ বেশ কিছু ‘ফায়ার’ করেছেন, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত ‘ব্যাক ফায়ার’ হয়েছে।
এই বিতর্কের দুই দিন পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার (Azad Majumder) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পার্থকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, পার্থের বাচনভঙ্গি তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রফেসর মুহম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছিলেন, তখন এক পর্যায়ে পার্থকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই বৈঠকে পার্থ অনুরোধ করেছিলেন, এমনভাবে কাজ করতে যাতে দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসতে না পারে।
আজাদ মজুমদার স্ট্যাটাসে পার্থের একটি বক্তব্য তুলে ধরে লেখেন, তিনি বলেছিলেন—‘তারা যদি ফিরে আসে, আপনার জন্য তো স্যার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফোন করবে, কিন্তু আমাদের জন্য ওসি কুদ্দুসও ফোন করবে না।’ এই মন্তব্যে উপস্থিত সবাই, এমনকি প্রফেসর ইউনূসও হেসে উঠেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় পার্থ বা তার দলকে আর দেখা যায়নি। এমনকি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকগুলোতেও তার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে তার বাগ্মিতা কাছ থেকে দেখার সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে।


