ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমনে যখন অসন্তোষ তুঙ্গে, ঠিক তখনই তেহরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর ওয়াশিংটনের জন্য নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। এই ঘটনা শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকেই নয়, বরং ইরানের আকাশসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের এমন দাবির বিপরীতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাস্তবতার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ভূপাতিত হওয়া প্রথম যুদ্ধবিমানের দুই ক্রু সদস্যের একজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে অন্যজন এখনো নিখোঁজ।
এর কিছু সময় পরই দ্বিতীয় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই বিমানের পাইলট শেষ পর্যন্ত ইরানি সীমান্তের বাইরে গিয়ে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন এবং পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ইরানের আকাশকে ‘আনকন্টেস্টেড এয়ারস্পেস’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট মহল থেকে দাবি করা হয়েছিল— সেখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি নেই। এমনকি মার্চ মাসে ট্রাম্প নিজেও দাবি করেছিলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান তেহরানের আকাশে নির্বিঘ্নে উড়ছে এবং ইরানের রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই দাবিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে থাকলেও এই পরিস্থিতি ‘অসম যুদ্ধ’-এর বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি মার্কিন জনগণের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সামরিক সাফল্য অতিরঞ্জিত করার অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার দাবি করা হলেও পরবর্তীতে আবার সেই হুমকির বিষয়টি সামনে আনা হয়।
সিএনএনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তার বড় একটি অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। ফলে রেভল্যুশনারি গার্ডের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
প্রতিরক্ষাসচিব হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমকে ‘ফেক নিউজ’ আখ্যা দিয়ে দাবি করে আসছিলেন যে, স্থলবাহিনী ছাড়াই ইরানের আকাশ ও জলপথ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে— গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখনো অচল, আর আকাশসীমাও মার্কিন বাহিনীর জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়।


