গণভোটের রায় অমান্য হলে সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণার হুঁশিয়ারি এনসিপির

রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় মানা না হলে বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party–NCP)।

রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (Asif Mahmud Sajib Bhuiya)। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোটের ফলাফল এবং রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রেক্ষাপটে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বিগত সময়ে দেশ ফ্যাসিবাদের অভিজ্ঞতা দেখেছে, আর বর্তমানে সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারী প্রবণতার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে সেদিন থেকেই সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হবে। “আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না”—যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই এনসিপি সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতি আন্দোলনের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। “গণভোট ঘিরে যে নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই”—বলেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা প্রায়ই দাবি করে যে আগামী ১৫–২০ বছরে দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। তবে ইতিহাস ভিন্ন বার্তা দেয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা না হওয়ায় ১৯৭১ সালের ঘটনা ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা যদি রক্ষা করা না যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালেও নতুন করে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অনেকে জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর আমলের গণভোটের সঙ্গে বর্তমান গণভোটের তুলনা করছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, সেই সময় রাষ্ট্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে একটি ‘কিংস পার্টি’ তৈরির উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান গণভোট হয়েছে রাষ্ট্র কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে, যেখানে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে সংবিধানের কথা বললেও অন্যদিকে প্রশাসক নিয়োগে তা লঙ্ঘন করছে। সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও, অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রাখা হচ্ছে যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যেকোনো সময় অপসারণ করা সম্ভব হয়। এতে বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ‘অনুগত প্রশাসক’ বানানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ (Awami League) শাসনামলে বহু সংস্থার হাতে ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল এবং এতে কোনো কার্যকর আইনি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানে সীমিত করে এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশ বাতিল করে আবারও বহু সংস্থার হাতে এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।