চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনও ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল রূপান্তরের লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়েছিল—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ (Hasnat Abdullah)। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রয়োজনীয় সংস্কার এড়িয়ে যায়, তবে জুলাইয়ের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিএল ভবনে ‘ভয়েস অব রিফর্ম’ আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ-প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’—শীর্ষক এই সংলাপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সংলাপে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাসিনা কোনও একক ব্যক্তি নয়, বরং একাধিক ফ্যাসিবাদী ধারণার সমষ্টি। তাঁর মতে, বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে ভবিষ্যতে যেকোনও ব্যক্তি একই ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ফলে প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্র কাঠামোর গভীর সংস্কার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তিনি মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ কার্যকর না হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন। বলেন, এটি কার্যকর না হলে তদন্তের দায়িত্ব আবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ফিরে যাবে। এতে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের দ্বারা সংঘটিত হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের তদন্ত পুলিশের হাতেই থেকে যাবে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। একই সঙ্গে গুম হওয়া পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ এমন একটি রাষ্ট্র প্রত্যাশা করেছিল যেখানে কাউকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হবে না।
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ‘ভয়েস অব রিফর্ম’-এর উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর (Fahim Mashrur)। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন (Manzur-Al-Matin) বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত গৃহীত হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আইনটি এখনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন বিলম্ব না করে দ্রুত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী (Dilara Chowdhury), আলোকচিত্রী শহিদুল আলম (Shahidul Alam), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন (Syed Hasibuddin Hossain) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (Mujibur Rahman Monju) সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
