উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও বাহরাইনের মধ্যে একমাত্র সড়ক সংযোগ কিং ফাহাদ কজওয়ে (King Fahd Causeway) সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কজওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ। ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি সৌদি আরব ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের মধ্যে একমাত্র স্থল যোগাযোগের পথ, যা প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে—বোমা হামলা চালানো হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত এলে তারা ‘বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেবে। ফলে উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান পুরো অঞ্চলে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কজওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যাতায়াতে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা নাজুক হয়ে উঠেছে, তারও একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সম্ভাব্য বড় সংঘাতের পূর্বাভাস দিচ্ছে—যেখানে কূটনীতি, সামরিক প্রস্তুতি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে জড়িয়ে পড়েছে।


