যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সামরিক হামলার পর সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ। মঙ্গলবার সংঘটিত এই হামলায় দ্বীপটির ৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ও ইরানি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পরপরই পুরো দ্বীপজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। ইরানি গণমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক ও ব্যাপক আক্রমণের ফলেই এই ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (The Wall Street Journal) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো খার্গ দ্বীপের অন্তত ৫০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করেছে। এতে দ্বীপটির কৌশলগত স্থাপনাগুলো সরাসরি আঘাতের মুখে পড়ে।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ (Mehr News Agency) দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনীর পাশাপাশি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও এই হামলায় অংশ নিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক দফায় পরিচালিত বিমান হামলার সময় দ্বীপজুড়ে অসংখ্য বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পুরো এলাকাকে আতঙ্কিত করে তোলে।
তবে এই হামলার ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কেউ নিহ’\ত বা আহত হয়েছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে, যদিও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।


