ইরানের ওপর হামলা স্থগিত: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে স্বস্তি, বিশ্বজুড়ে সতর্ক স্বাগত

ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত ব্যাপক আকারের হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তার এই সিদ্ধান্তের পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান (Iran)-এর সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিল। একইসঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল—বিশেষ করে জাতিসংঘ (United Nations) এবং বিভিন্ন দেশ।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ঘোষণাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর হঠাৎ করে এই বিরতি সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস (António Guterres) যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি কেবল একটি সূচনা। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান সংঘাতে জড়িত সকল পক্ষের উচিত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা। তবেই এই অঞ্চলকে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ শান্তির দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া (Australia) এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা চায় যুদ্ধবিরতি যেন কার্যকর থাকে এবং দ্রুত একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানো যায়।

একই ধরনের প্রতিক্রিয়া এসেছে নিউজিল্যান্ড থেকেও। যদিও দেশটি এই ঘোষণাকে উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছে, তবুও সতর্ক করে বলেছে—স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের মুখপাত্রের ভাষায়, এটি একটি ইতিবাচক শুরু হলেও সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়।

জাপানও যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়—সংকট নিরসনে প্রয়োজন কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযানের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে দেশটি।

ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও টেকসই সংলাপ’ জরুরি বলে মনে করে।

এদিকে পাকিস্তান (Pakistan)-এর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সামাজিকমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে পরবর্তীতে ইসরাইল স্পষ্ট করে জানায়, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়—যা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: ফ্রান্স২৪