সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্রে হিড়িক—প্রথম দিনেই বিক্রি ৪৯টি ফরম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহের স্পষ্ট চিত্র। তফসিল ঘোষণার পরদিনই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে যেন হিড়িক পড়ে যায়। ৫০টি সংরক্ষিত আসনের বিপরীতে প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে ৪৯টি মনোনয়নপত্র, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দীন খান। তিনি জানান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রথম দিনেই বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে। তার ভাষায়, “৪৯ জন প্রার্থী প্রথম দিনেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, যা এই আসনগুলোকে ঘিরে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।”

তিনি আরও বলেন, আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোনয়নপত্র নিতে এসেছেন, আবার কেউ এসেছেন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত জামানতসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সেই তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, আর আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। এরপর ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং সবশেষে আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাচ্ছে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট পাচ্ছে ১টি আসন। এই বণ্টনকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন ঘিরে যে আগ্রহ ও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।