নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচে টাইব্রেকারের উত্তেজনা পেরিয়ে হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে ৪-৪ গোলের সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আমিরুলদের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় দাপট দেখায় বাংলাদেশ। প্রথম পাঁচ মিনিটেই রকি (Rocky)-র পেনাল্টি কর্নার এবং আমিরুল (Amirul)-এর পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দল। শুরুটা যতটা দারুণ ছিল, পরের সময়টা ততটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।
দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় হংকং। এক গোল শোধ করে তারা ম্যাচে ফিরে আসে এবং প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের পক্ষে।
দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তৃতীয় কোয়ার্টারে সমতা ফেরায় হংকং। এরপর আশরাফুল (Ashraful)-এর পেনাল্টি কর্নার থেকে আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
চতুর্থ কোয়ার্টারে গোলের লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণে দুই দলই গোল করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৪-৪ সমতায় পৌঁছে। নির্ধারিত সময় শেষে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। প্রথম শট মিস করায় চাপে পড়ে দল। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর (Biplob Kujur)। দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তিনি দুইটি শট রুখে দিয়ে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন।
এরপর রোকন (Rokon), জয় (Joy) এবং ফজলে রাব্বি (Fazle Rabbi) সফলভাবে শট নিলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমস হকির বাছাই টুর্নামেন্টে পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাছাইপর্ব থেকে ছয়টি দল মূল আসরে সুযোগ পাওয়ায় এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও নিশ্চিত হয়েছে।
রোমাঞ্চকর এই জয়ের মাধ্যমে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং বড় মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করল বাংলাদেশের হকি দল।
