স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিল ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই বিলের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রশাসনের ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ করা হচ্ছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি ‘আরেকটা আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কিনা—সে প্রশ্নও তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর আপত্তি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, “এই বিলের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে। এটি বিএনপির ৩১ দফার ইশতেহারেও ছিল না। ৩১ দফার ২০ নম্বর দফায় স্পষ্ট বলা ছিল—মৃ’\ত্যু বা আদালতের দণ্ড ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণ করা হবে না। আজ কি বিএনপি সেই কথা ভুলে গেছে? নাকি মেজরিটি পাওয়ারের মধ্য দিয়ে তারা আসলে আরেকটা আওয়ামী লীগ (Awami League) হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে?”
বিলের ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ এবং ‘জনস্বার্থে অপসারণ’ সংক্রান্ত বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বিশেষ পরিস্থিতি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ভোট চোরদের সরাতে যে অধ্যাদেশ হয়েছিল, সেটিকে এখন আইনে রূপান্তর করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গলার কাঁটা বানানো হচ্ছে।”
তার অভিযোগ, “বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে যেকোনো মেয়র বা কাউন্সিলরকে সরিয়ে দিয়ে দলীয় লাঠিয়াল বা মন্ত্রী-এমপির সন্তানদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর পায়তারা চলছে।”
নির্বাচনি অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা যখনই গণতন্ত্রের কথা বলি, তখনই বলা হয় আমরাই তো গণতন্ত্র এনেছি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে ছাপ্পা মারা হচ্ছে, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি শিশুদের দিয়েও ভোট দেওয়ানো হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, মাগুরা, বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গেও সমালোচনা করেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা হলেও আগে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার জন্য আলাদা সচিবালয়ের কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসা কেন—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়া গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কালো আইন হিসেবে থেকে যাবে।”
শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, “চুরি করা যায়, কিন্তু আওয়ামী লীগ যেভাবে চুরি করে হজম করতে পেরেছিল, বিএনপি তা পারবে না। দয়া করে সেই পথে হাঁটবেন না। এই বিল পাস হলে স্থানীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হ’\ত্যা করা হবে।”
তার বক্তব্য চলাকালে ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের হইচই সত্ত্বেও তিনি বিলের প্রতিটি ধারা নিয়ে কঠোর আপত্তি জানান।
