আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি ঘিরে। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে—যে কোনো মুহূর্তে এই চুক্তি ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জাতিসংঘে প্রায় ৬০টি দেশ ইতোমধ্যে লেবাননে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যা বৈশ্বিক উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, লেবানন ইস্যুতে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে। এই আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও মাঠের পরিস্থিতি তার উল্টো বার্তাই দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইরান (Iran)-এর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ইসরাইল যৌথ হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুতেই ইরানপন্থী লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ (Hezbollah) ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল (Israel) লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালাতে থাকে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। কিন্তু সেই চুক্তির পরও লেবাননে হামলা থামায়নি ইসরাইল। বরং গত বুধবারের হামলায় তিন শতাধিক মানুষ নি’\হত হয়েছেন বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এমন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অর্জিত এই অস্থায়ী শান্তি যে খুবই ভঙ্গুর, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তা আরও স্পষ্ট করে তুলছে। কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তুতি চললেও বাস্তব পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।


