যুদ্ধ পরিস্থিতি থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান (Pakistan)-এর রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন ইরান (Iran) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর প্রতিনিধিরা। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ইসলামাবাদের অভিজাত সেরেনা হোটেল।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের আগে দুই দেশের প্রতিনিধিদল পৃথকভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। এরপরই মূল আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিকেলের দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবারই ইসলামাবাদে পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) এবং তার প্রতিনিধিদল। তাদের বহনকারী বিমান অবতরণের পর রানওয়েতে উপস্থিত থেকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং দেশটির ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এই অভ্যর্থনাই ইঙ্গিত দেয়, আলোচনাটিকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পাকিস্তান।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর ধারাবাহিকতায় আলোচনার টেবিলে বসছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। আলোচনার জন্য ইরান একটি ১০ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। এতে রয়েছে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার, আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মতো দাবি।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর প্রশাসন একটি ১৫ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই প্রস্তাবে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি থেকে সরে আসা এবং সামরিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


