কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: পেন্টাগনের বর্ণনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বেঁচে ফেরা মার্কিন সেনারা

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ ইরানি হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কুয়েতে সংঘটিত ওই হামলায় বেঁচে যাওয়া মার্কিন সেনাসদস্যরা পেন্টাগন (Pentagon)-এর দেওয়া ঘটনার বিবরণ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, হামলার সময় তাদের ইউনিটটি ছিল বিপজ্জনকভাবে অরক্ষিত। এই হামলায় ছয়জন সেনাসদস্য নি’\হত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন।

প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এসে হামলার শিকার ইউনিটের সদস্যরা সিবিএস নিউজ (CBS News)-কে নিজেদের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে হামলার ভয়াবহতা, প্রস্তুতির ঘাটতি এবং ঘটনার পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

গত ১ মার্চ কুয়েত (Kuwait)-এ ইরানের ড্রোন হামলাটি ঘটে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ছয় মার্কিন সেনা নি’\হত হন এবং আরও ২০ জনের বেশি আহত হন। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) দাবি করেছিলেন, ড্রোনটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস সেন্টারে আঘাত হানে, তবে সেটি ছিল একটি ‘সুরক্ষিত’ এলাকা।

কিন্তু বেঁচে যাওয়া সেনাসদস্যরা এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একজন আহত সেনাসদস্য বলেন, “ড্রোনটি কোনোভাবে ঢুকে পড়েছিল—এমন ধারণা ভুল। বাস্তবে আমাদের ইউনিট নিজেদের রক্ষা করার মতো প্রস্তুতই ছিল না। এটি কোনো সুরক্ষিত ঘাঁটি ছিল না।”

আরেকজন সেনাসদস্য জানান, তাদের ইউনিটকে এমন একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, একটি লজিস্টিক ইউনিট হিসেবে তাদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান করানো ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত।

হামলার দিন সকালে সেনারা নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেও কিছু সময় পর ‘সবকিছু স্বাভাবিক’ সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সংকেতের মাত্র ৩০ মিনিট পরই ড্রোনটি এসে আঘাত হানে ঘাঁটিতে। একজন সেনা বর্ণনা করেন, “হঠাৎ করে সবকিছু কেঁপে উঠল। চারদিকে ধুলো আর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ল, কানে তীব্র শব্দ হচ্ছিল—পুরো দৃশ্যটা যেন সিনেমার মতো।”

শুধু হামলাই নয়, পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সেনাসদস্যরা। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় আহত সেনারাই নিজেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং বেসামরিক যানবাহন ব্যবহার করে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা দপ্তরের সহকারী সচিব শন পারনেল (Sean Parnell) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে রয়টার্স (Reuters)-কে দেওয়া এক বক্তব্যে এক কর্মকর্তা জানান, সেখানে কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। এমনকি ড্রোনটি ঘাঁটির দিকে এগিয়ে আসার সময় কোনো সতর্কসংকেতও শোনা যায়নি।

মার্কিন সেনাদের এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর প্রতিরক্ষা দপ্তরের দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনাদের বাস্তব অবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command – CENTCOM)-এর প্রকাশিত তথ্যও আরও গভীরভাবে যাচাই করার দাবি জোরালো হচ্ছে।