হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উত্তেজনা: টোল দাবি ও সামরিক সতর্কতায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আলোচনার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই দাবি করেছেন, এই জলপথ পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এখানে চলাচলের জন্য টোল রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিবিসির (BBC) খবর অনুযায়ী, বাবাই স্পষ্টভাবে বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এই পথ ব্যবহার করতে হলে টোল অবশ্যই ইরানের মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। তার এই বক্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সমুদ্র বাণিজ্য রুট নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত পথ হিসেবে বিবেচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনায় এই জলপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করাই একটি প্রধান শর্ত ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত এটি আলোচনায় বড় মতবিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দাবি করেন, “হরমুজ প্রণালি শিগগিরই উন্মুক্ত হবে।” তার এই মন্তব্যও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command)) জানায়, তাদের দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং জলপথে থাকা মাইন অপসারণে কাজ করছে। তবে এই দাবি ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (Islamic Revolutionary Guard Corps)) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনো সামরিক জাহাজ যদি এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করে, তাহলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইরানের কৌশলগত অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং পারস্পরিক হুঁশিয়ারি—সবকিছু মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।