যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলেও পাকিস্তান (Pakistan) তার কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে সরে আসছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সানোবার ইনস্টিটিউট (SanoBar Institute)-এর নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা (Kamran Chima)। তিনি আলজাজিরা (Al Jazeera)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গত এক দশকের মধ্যে এই আলোচনাটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর একটি।
কামার চিমা জানান, আলোচনার টেবিলে ইরানকে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এখন সেই প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইরানি প্রতিনিধিদলকে তাদের দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মতামত নিতে হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হওয়ায় নতুন নেতৃত্বই এখন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, “পাকিস্তানের কাজ ছিল দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনা, তাদের মধ্যকার দূরত্ব কমানো এবং আস্থা পুনর্গঠন করা—আর পাকিস্তান সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছে।”
চিমা দাবি করেন, উভয় পক্ষই পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির জন্য ইতিবাচক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তার মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো যুদ্ধবিরতি। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি পেয়েছি, আর সেটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
আগামী দিনগুলোতে ইরান প্রস্তাবটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর আবারও আলোচনায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও এগিয়ে যাবে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে।


