আন্দামান সাগরে নৌকাডুবির এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ (United Nations)। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি নতুন করে সামনে এনেছে বাস্তুচ্যুতি, মানবপাচার এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবের ভয়াবহ বাস্তবতা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ইউএনএইচসিআর (UNHCR) এবং আইওএম (IOM)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকার কারণে নৌকাটি ডুবে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার (Myanmar)-এ নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে অস্থায়ী, অনিরাপদ নৌযানে চড়ে মালয়েশিয়া (Malaysia) বা অন্য দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এই যাত্রাপথে ঝড়, খাদ্যসংকট, অসুস্থতা এবং পাচারচক্রের নির্যাতন—সবই যেন মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ৯ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়াগামী একটি জাহাজ সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় কয়েকজন মানুষকে দেখতে পায়। পরে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।
কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র বলেন, অভিযানের সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে পানিতে ভেসে ছিলেন। সেই দৃশ্য থেকেই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নয়জনের মধ্যে ছয়জনকে মানবপাচারকারী সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাচারচক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
বেঁচে ফেরা এক ব্যক্তি জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রযাত্রা শুরু হওয়ার পরই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথেই অনেক মানুষ নৌকার ভেতরে মারা যান। নৌকায় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত তেলে কয়েকজন দগ্ধও হন।
তিনি আরও জানান, চার দিন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার পর নৌকাটি ডুবে যায়। এরপর তারা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পানিতে ভেসে ছিলেন। তার দাবি, অতিরিক্ত ভিড়, শ্বাসরোধ এবং অমানবিক অবস্থার কারণে যাত্রাপথেই ২৫ থেকে ৩০ জন মা’\রা গেছেন।
জাতিসংঘ বলেছে, এই ঘটনা শুধু একটি নৌকাডুবি নয়—এটি দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি, নিরাপত্তাহীনতা এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান না থাকার ভয়াবহ পরিণতি। এমন ঘটনা বারবার প্রমাণ করছে, নিরাপদ আশ্রয় ও সুরক্ষিত অভিবাসন পথের অভাব কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।


