মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নেতিবাচক হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে ইরান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি (Sayyid Badr bin Hamad Al-Busaidi)-এর সঙ্গে ফোনালাপে এই অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi)।
দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার ফলাফল উঠে আসে। আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানান, বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, তবে এর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সাম্প্রতিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং কূটনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসতে পারে।
এদিকে, ওমানের গঠনমূলক ও নীতিগত অবস্থানের প্রশংসা করে আরাঘচি বলেন, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান সবসময় সহযোগিতার পথেই বিশ্বাসী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ওমানের দায়িত্বশীল ভূমিকা ইরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের হ’\ত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পাল্টা জবাবে গত ৪০ দিন ধরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও আক্রমণ চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই প্রেক্ষাপটেই ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিলেও দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। এর পেছনে মার্কিন পক্ষের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসলামাবাদের সেই আলোচনায় ইরান মূলত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)-এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলে। তবে মার্কিন প্রতিনিধিদল এসব শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়েই ওমানের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিজ্ঞ ওমানকে পাশে রেখে ইরান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জনমত নিজেদের পক্ষে নেওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে চাইছে।
তেহরানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি তখনই সম্ভব, যখন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে।


