ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনো পর্যন্ত আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ বা সময়সূচি চূড়ান্ত করা যায়নি, ফলে পরিস্থিতি কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি (BBC) জানিয়েছে, একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই আলাপ-আলোচনা চলছে। উভয় পক্ষই আপাতত প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও পর্দার আড়ালে যোগাযোগ চালু রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর অবস্থান সম্পর্কে জানা গেছে, তেহরান চুক্তি নিয়ে কতটা আন্তরিক—তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ-অবরোধ শিথিল করতে তিনি আগ্রহী নন। ওয়াশিংটনের ধারণা, এই চাপ অব্যাহত রাখলেই ইরানকে একটি কার্যকর সমঝোতার পথে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স (Reuters) জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি। তবে একটি চূড়ান্ত সমাধানের আশায় দুই দেশের মধ্যে নেপথ্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল হলেও সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তান (Pakistan)-এ পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে বলে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে বসাতে তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের এই টানটান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরি করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।


