সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছবি তুলে কাউকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ করা উচিত নয়—এমন মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর (Anis Alamgir)। তার ভাষায়, কারও সমালোচনা করতে হলে সেটি হওয়া উচিত কাজ, ভূমিকা ও তথ্যের ভিত্তিতে; শুধুমাত্র কার সঙ্গে ছবি আছে, তা দিয়ে নয়।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক (Facebook)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক শাইখ সিরাজ (Shykh Seraj)-কে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চলা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আনিস আলমগীর লেখেন, শাইখ সিরাজকে একুশে পদক দিয়েছিল বিএনপি সরকার, আর আওয়ামী লীগ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়েছে। তার মতে, এ থেকেই বোঝা যায়—দুই রাজনৈতিক পরিসরেই শাইখ সিরাজের গ্রহণযোগ্যতা বহু আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণভবন থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার মতো একটি বিষয় নিয়ে এত আলোড়নের কী কারণ থাকতে পারে। বরং একজন পেশাদার সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হওয়া উচিত সব মহলে গ্রহণযোগ্য থাকা—এমনটাই মনে করেন তিনি।
আনিস আলমগীর আরও বলেন, গণভবন (Ganabhaban)-এ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া শাইখ সিরাজের সাক্ষাৎকার তিনি পুরোটা দেখেছেন। সেখানে একজন সরকারপ্রধানের কৃষি ও খামারের প্রতি আগ্রহ দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল। তার দাবি, ওই সাক্ষাৎকারে বাড়াবাড়ি বা ভুয়া কিছু ছিল না।
তিনি একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, গণভবনে লুটপাটের সময় সেখানকার প্রিয় প্রাণীগুলো সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও মানুষ দেখেছে। তাই সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে তথ্যগত ভুল, পক্ষপাত বা দালালির মতো বাস্তব বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত—কে কার সঙ্গে গেলেন বা ছবি তুললেন, তা নিয়ে নয়।
তার ভাষায়, এখানে ব্যক্তি নয়, বরং পদ ও দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কারও উপস্থিতি সব সময় ব্যক্তিগত অবস্থানের প্রতিফলন নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতার পালাবদল হলে একই মানুষকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা যেতেও পারে।
শেষে তিনি বলেন, সরকারপ্রধান কিংবা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছবি দেখে কাউকে ট্যাগ দেওয়া বা বিচার করা অনুচিত। যদি ট্যাগ করতেই হয়, তবে সেটি হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপকর্ম, ভুল সিদ্ধান্ত বা তথ্যভিত্তিক সমালোচনার সূত্র ধরে।
