পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন সূচনা, রঙিন আবহ আর বাঙালিয়ানার উচ্ছ্বাসে ভরা এক অনন্য দিন। এই দিনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও মেতে ওঠেন উৎসবের আনন্দে। সেই আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করতে প্রায় দুই যুগ ধরে বিশেষ আয়োজন করে আসছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টেলিহোম (Telehome)।
প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মো. আলী বশির (Md. Ali Bashir)-এর উদ্যোগে রাজধানীর গুলশানের একটি কনভেনশন হলে আয়োজন করা হয় ‘শুভ নববর্ষ ১৪৩৩-টেলিহোম’। সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জমে ওঠে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যেখানে নাট্যাঙ্গনের অসংখ্য পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের আয়োজনে অংশ নেন দেশের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত (Abul Hayat), দিলারা জামান (Dilara Zaman), ডলি জহুর (Dolly Johur), তারিক আনাম খান, আফজাল হোসেন, নিমা রহমান, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, শান্তা ইসলাম, ফেরদৌস হাসান রানা, আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, আজিজুল হাকিম, জিনাত হাকিম, আজাদ আবুল কালাম, মোমেনা চৌধুরী, চঞ্চল চৌধুরী, আরফান আহমেদ, রেশমা আহমেদ, দীপা খন্দকার, তাহমিনা সুলতানা মৌ, জনা, ফারজানা চুমকি, মৌসুমী-শোয়েব, গোলাম ফরিদা ছন্দা-সতীর্থ রহমান রুবেল, আহসান হাবিব নাসিম, রওনক হাসান, শাহেদ শরীফ খান-নাতাশা হায়াত, সজল, রিচি সোলায়মান, আসমা পাঠান রুম্পা, মোহাম্মদ বারী, জাকারিয়া মাসুদ জিকো, হাসান জাহাঙ্গীর, সুমাইয়া শিমু, ফারজানা ছবি, জেনি, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শখ, শবনম ফারিয়া, মিম চৌধুরী, আরশ খান, পাভেল, বাচ্চু, পারসা ইভানা, তানহা তাসনিয়া, নাবিলা বিনতে ইসলাম, শিরতাজ জেবিন, মাফতোহা জান্নাত জীম, রুবাইয়া এশা, সুমাইয়া অর্পা, নাযাহ এবং টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা মৃন্ময় কাঞ্জিলালসহ আরও অনেকে।
এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে শিল্পীরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। দিলারা জামান বলেন, “আলী বশিরের এই আয়োজনে না এলে আমাদের পহেলা বৈশাখ যেন পূর্ণতা পায় না।” আবুল হায়াত জানান, “বাংলা বর্ষবরণের এই দিনে অনেক নিমন্ত্রণ থাকে, তবে টেলিহোমের আয়োজনটাই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।”
ডলি জহুরের ভাষায়, “এই আয়োজন আমার এতটাই প্রিয় যে সবসময় চেষ্টা করি আগে এসে পুরো সময়টা এখানে কাটাতে।” অন্যদিকে দীপা খন্দকার বলেন, “এই আয়োজনেই আমাদের বর্ষবরণের আসল আনন্দ।”
নবীন প্রজন্মের শিল্পীরাও সমানভাবে উচ্ছ্বসিত। সজল বলেন, “এই আয়োজন আমাদের প্রাণের স্পন্দন, এখানে না এলে শূন্যতা লাগে।” পারসা ইভানা উল্লেখ করেন, “একই প্ল্যাটফর্মে সবার সঙ্গে দেখা হওয়াটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।” প্রথমবার অংশ নেওয়া জীম জানান, “এত সুন্দর আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।”
অনুষ্ঠান সম্পর্কে আয়োজক মো. আলী বশির বলেন, “আমন্ত্রিত সকল অতিথির উপস্থিতিতেই এই আয়োজন সফল হয়। যদিও আয়োজনটা আমার, কিন্তু আমি মনে করি এটি মূলত শিল্পীদেরই অনুষ্ঠান। বছরের পর বছর তারা যে ভালোবাসা দিয়ে অংশ নিচ্ছেন, সেটাই এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”


