পিটার হাসকে হুমকিদাতা মুজিবুল হককে ৭ বছরের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম (Chattogram)-এর বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুল হক চৌধুরী (Mujibul Haque Chowdhury)-কে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান (Mizanur Rahman) এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মুজিবুল হককে ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুজিবুল হক জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ জানান, মামলার পর থেকেই মুজিবুল হক পলাতক রয়েছেন। তিনি চাম্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, মুজিবুল হক ১৯৯২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। তবে ওই সময়ে দেশে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র বা গ্রহণযোগ্য উৎস দেখাতে পারেননি। তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

২০২৫ সালের ৩ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।

মুজিবুল হক ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর এক জনসভায় পিটার হাস (Peter Haas)-কে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অবরোধ কর্মসূচির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সভায় তার দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই বক্তব্যকে ‘সহিংস’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (US State Department) আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই মুজিবুল হক জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়ে ওঠেন।