যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে উত্তেজনা যখন নতুন মোড়ে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো এখতিয়ার ট্রাম্পের নেই।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দেওয়া এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্প যে দাবি করছেন ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না—তার পেছনে কোনো যুক্তি বা ব্যাখ্যা তিনি দেননি। তার ভাষায়, “একটি জাতিকে তার নিজস্ব অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ক্ষমতা ট্রাম্প কোথা থেকে পেলেন?”—এই প্রশ্নের মধ্যেই যেন ধরা পড়ে তেহরানের ক্ষোভ।
এদিকে, রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিতও স্পষ্ট করেছেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অনেক দূরে।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) খোলা হবে না। এই প্রণালিকে কেন্দ্র করেই এখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে গালিবাফ আরও বলেন, আলোচনার সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ সংঘাত শুরু করেছিল। অতীতের সংঘর্ষগুলোর মতো এবারও কমান্ডারদের টার্গেট করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
তিনি জানান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে আসা প্রস্তাবগুলো ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পর্যালোচনা করেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে—চাপের মুখে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ঠেকাতেই সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
গালিবাফের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে—যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে।
তার ভাষায়, “আমরা আলোচনায় কিছুটা এগিয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখনো বড় দূরত্ব রয়েছে। কিছু মৌলিক বিষয়ে আমরা আপসহীন, আর তাদেরও নিজস্ব সীমারেখা আছে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় সমঝোতার পথ সহজ হচ্ছে না।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া আরেক বক্তব্যে গালিবাফ দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থানে থাকায়ই যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থাৎ সামরিক ও কৌশলগত চাপই আলোচনার টেবিলকে প্রভাবিত করছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই চলমান টানাপোড়েন শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে। আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাসের দেয়াল এখনো অটুট।


