‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপকের স্ত্রী ফাহমিদা হক পেলেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন

টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপক ও পরিচালক জিল্লুর রহমান (Zillur Rahman)-এর স্ত্রী ফাহমিদা হক জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর মনোনয়ন পেয়েছেন। এই মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে প্রার্থী তালিকায় নতুন ও পরিচিত মুখের মিশ্রণের কারণে।

জানা গেছে, জিল্লুর রহমান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আর ফাহমিদা হক ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। পাশাপাশি তিনি বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

ফাহমিদা হকের বাড়ি নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় হলেও তার বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ব্যক্তিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে তিনি তার সিভিতে স্বামী জিল্লুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে বাবা জহিরুল হকের নাম তুলে ধরেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। এই তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ নেত্রীরা রয়েছেন, তেমনি নতুন মুখও জায়গা পেয়েছেন। তবে আলোচনায় থাকা কয়েকজন প্রভাবশালী নেত্রী শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছেন। তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন ১০ জন। অন্যদিকে বড় চমক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সহসভাপতি মানসুরা আক্তার।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi)। তিনি জানান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দুদিনব্যাপী বিস্তৃত সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্তভাবে এই তালিকা নির্ধারণ করেছে।

এবার সংরক্ষিত নারী আসনে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার পরিবারের সদস্যরাও মনোনয়ন পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, শিরীন সুলতানা এবং বীথিকা বিনতে হুসাইন। এসব মনোনয়নকে ঘিরে দলীয় রাজনীতির ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা চলছে।

এদিকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে প্রশংসা করে দেওয়া তার একটি ভিডিও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সুবর্ণা ঠাকুর দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার নাম তার সম্মতি ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং তিনি কখনোই দলটির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।