বিদেশি কর্মী নিয়োগে ডিজিটাল পদ্ধতি—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, জানাল মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেসুমা) (Ministry of Human Resources – KESUMA)। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা (Bernama)-এর এক প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়, শ্রম সরবরাহকারী দেশ (সোর্স কান্ট্রি) ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস (FWCMS))-এর প্রযুক্তি সরবরাহকারীর সঙ্গে আলোচনা, যা ২০১৫ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে—এমন দাবি বা সংবাদ সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং সরকারের প্রকৃত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না বলে জানিয়েছে কেসুমা।

মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর পরিচালিত বিস্তৃত পর্যালোচনায় উৎস দেশগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে ঋণদাসত্বের মতো ঝুঁকি শ্রমিকদের শোষণের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক একটি ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নিয়োগকর্তারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এতে নিবন্ধন, বাছাই, কাজের সঙ্গে দক্ষতার মিল নির্ধারণ, চুক্তি সম্পাদন এবং কর্মী পাঠানোর মতো সব ধাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়োগ সংক্রান্ত সব ব্যয় নিয়োগকর্তাদের বহন করতে হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং শ্রমিকদের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না।

কেসুমা জানিয়েছে, প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যায্য ও নৈতিক নিয়োগ নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে এই ডিজিটাল পদ্ধতি কেবল উৎস দেশগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে প্রযোজ্য হবে এবং কোটা অনুমোদন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমের মতো পূর্ববর্তী ধাপগুলোতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।