চট্টগ্রামে লিফটে আটকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর, ৯৯৯–এ ফোনে উদ্ধার—আতঙ্কে কেঁপে উঠল পরিবার

বিদ্যালয় ছুটির পর প্রতিদিনের মতো নির্ধারিত সময়ে বাসায় ফেরেনি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিদ্যালয়ে ফোন করেও তার কোনো খোঁজ পাননি। ক্রমেই উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকলে ছেলের খোঁজ নিতে কর্মস্থল থেকে দ্রুত নিজের সরকারি বাসভবনে ফিরে আসেন তার বাবা।

বাসায় এসে নিচতলায় একটি লিফট অস্বাভাবিকভাবে আটকে থাকতে দেখে তাঁর মনে সন্দেহ জাগে। লিফটের দরজায় বাইরে থেকে ধাক্কা দিতেই ভেতর থেকে সাড়া পাওয়া যায়। মুহূর্তেই তিনি বুঝে ফেলেন—ভেতরে কেউ আটকে আছে, এবং সেটি সম্ভবত তাঁরই ছেলে। সময় নষ্ট না করে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ (National Emergency Service 999)-এ ফোন করেন।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে চট্টগ্রাম (Chattogram) নগরের পাঁচলাইশ এলাকার সরকারি আবাসিক ভবন ‘হালদা’তে। ফায়ার সার্ভিসের চন্দনপুরা স্টেশনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লিফট খুলে কিশোরটিকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে ফায়ার ফাইটার মো. ফারুক হোসেন (Md. Faruk Hossain) জানান, লিফটের কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

পরিবার ও ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই কিশোর বিদ্যালয় ছুটির পর প্রায় তিনটার দিকে বাসায় ফেরে। কিন্তু সেদিন প্রায় আধা ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে লিফট আটকে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন তার বাবা। পরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে নিশ্চিত হন, ভেতরেই আটকে আছে তাঁর ছেলে।

দীর্ঘ সময় লিফটের ভেতরে আটকে থাকায় কিশোরটি মারাত্মকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে বলে তার বাবা জানান। তার আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। লিফটের ভেতরে কোনো ফ্যান কাজ করছিল না, এমনকি জরুরি অ্যালার্ম বাটন চাপলেও সেটি বাইরে শোনা যায়নি।

ভবনের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ‘হালদা’ ভবনের দুটি লিফটই প্রায়ই বিকল হয়ে যায়। ভেতরে অ্যালার্ম থাকলেও তা কার্যকর নয়, নেই কোনো ইন্টারকম ব্যবস্থা। ফলে কেউ আটকে পড়লে বাইরে যোগাযোগ করার কোনো উপায় থাকে না। বাসিন্দাদের মতে, একটি কার্যকর ইন্টারকম ব্যবস্থা থাকলে কিশোরটিকে এত দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো না।

এ বিষয়ে জানতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর (Government Housing Directorate)-এর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আইরিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।