শর্তভঙ্গ, অনিয়ম আর প্রতারণার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত বাতিল পিপিপি আবাসন প্রকল্প

চুক্তি স্বাক্ষরের পর নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষ তা উপেক্ষা করে যায়। সময় গড়াতে থাকলেও প্রকল্পে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হলেও তাতেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এদিকে, প্রকল্পে যুক্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে। যাচাই-বাছাইয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs) দেখতে পায়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রাখে না। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বুলেভার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স লিমিটেড (Boulevard Capital Partners Limited)-এর অস্তিত্ব নিয়েও তৈরি হয় গুরুতর সন্দেহ। হংকংয়ে দেওয়া ঠিকানায় তাদের কোনো কার্যকর অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মূলধন অত্যন্ত সীমিত—যা দিয়ে এমন বৃহৎ প্রকল্পে অর্থায়ন কার্যত অসম্ভব। ফলে শুরু থেকেই প্রকল্পের আর্থিক ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

অন্যদিকে, প্রকল্পের একটি অংশীদার চীনা প্রতিষ্ঠানও গুরুতর অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, যৌথ উদ্যোগের আড়ালে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এ অবস্থায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় (Ministry of Housing and Public Works) আয়োজিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সভা থেকে রাজউক (RAJUK)-কে পিপিপি চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পিপিপি কর্তৃপক্ষ (PPP Authority)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ধারাবাহিক অনিয়ম, চুক্তির শর্তভঙ্গ এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে শেষ পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাতিলের সুপারিশ করে। পরে চুক্তির নির্ধারিত ধারার আওতায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পিপিপি প্রকল্প বাতিল করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি অকার্যকর ও সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের কবল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আবাসন প্রকল্পটি রক্ষা পেয়েছে।