ভাইরাল ভিডিওর জেরে বিচারিক ক্ষমতা হারালেন হাইকোর্টের বিচারপতি আব্দুল মান্নান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৌজন্যমূলক আচরণের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি :contentReference[oaicite:0]{index=0}-কে বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়, যা বিচারাঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে কুমিল্লায় একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আচরণগতভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ করেই উচ্চস্বরে কথা বলা শুরু করেন বিচারপতি, যা পরে তর্কাতর্কির পর্যায়ে গড়ায়। ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং শেষ পর্যন্ত তা মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে :contentReference[oaicite:1]{index=1}-এর বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন প্রধান বিচারপতি, যেখানে বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে কোনো বিচারিক দায়িত্বে রাখা হয়নি। শুধু বেঞ্চ থেকেই নয়, কজলিস্ট থেকেও তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে—যা কার্যত তাকে বিচারিক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার ইঙ্গিত বহন করে।

বিচারিক পরিভাষায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে একে ওএসডি হিসেবে দেখা হয়, অর্থাৎ দায়িত্বহীন অবস্থানে রাখা।

ঘটনার সূত্রপাত ৩ এপ্রিল সকালে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামে। সেদিনের ঘটনার প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও এখনো সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিচারপতি কিছু বলতে গেলে উপস্থিত অন্যরা তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কেউ তার বক্তব্য শুনতে আগ্রহ দেখাননি। বরং পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে ওঠে। এর মধ্যে কয়েকবার ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও শোনা যায়, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে বিচারপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত উত্তপ্ত পরিবেশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি।