জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকার এবার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবহণ ভাড়া সমন্বয় নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান শেখ রবিউল আলম (Sheikh Rabiul Alam)।
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা (Dhaka) ও চট্টগ্রাম (Chattogram) মহানগরীর বাসসহ দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই হারে আন্তঃজেলা রুটের ভাড়াও বাড়বে। সরকারের ভাষ্য, নতুন এই ভাড়া বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হবে।
তবে সব ধরনের বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হচ্ছে না। মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ডিজেলচালিত বাসের জন্যই ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হবে; সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে এই বাড়তি ভাড়া প্রযোজ্য হবে না। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমে এলে বাসভাড়াও আবার কমানো হবে। যদিও রেল ও নৌপথের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি (Bangladesh Road Transport Owners Association) জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারকে বাসভাড়া যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিল। সেই দাবির পরই ভাড়া সমন্বয় নিয়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের এই বৈঠক হয়।
বর্তমানে দেশে দূরপাল্লার রুটে সরকার নির্ধারিত বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ভাড়া রয়েছে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা। নতুন সমন্বয়ের ফলে এই হার আরও বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিয়মিত যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয়ে।
এর পেছনে মূল কারণ সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যা রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ (Power Division, Energy and Mineral Resources) নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকায় উঠেছে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহণ খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার যুক্তি তুলে ধরে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এতে সাধারণ যাত্রীদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হলো বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
