গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে বিশাল সমাবেশ, রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlis)। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর নেতারা একযোগে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন থামবে না। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরের আন্দোলন আর রাজপথের আন্দোলন একসঙ্গে মিশে গেলে তা আর কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব হবে না। তার ভাষায়, “কোনো বালুর বাঁধ দিয়ে সেই স্রোত রোধ করা যাবে না।”

তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। একইসঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যারা একসময় গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল, তারাই এখন অবস্থান বদলে ফেলেছে। ১৯৭১ সালে গণরায় অস্বীকারের যে ভয়াবহ পরিণতি হয়েছিল, সেটির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam)। তিনি বলেন, সরকার যদি শক্তি প্রয়োগ করে গণভোটের রায় এড়িয়ে যেতে চায়, তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

এদিকে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ (Oli Ahmad) নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে এবি পার্টির নেতা মজিবুর রহমান মনজু (Mujibur Rahman Monju) বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশে নতুন করে সংকট সৃষ্টি হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আমির মামুনুল হক (Mamunul Haque)। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, তাদের উচিত নিজেদের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে না আসা। একইসঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতারা একযোগে বর্তমান সরকারের পতন এবং গণভোট বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা অভিযোগ করেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে দেশের মানুষ স্বস্তিতে নেই। অবিলম্বে দাবি মেনে না নেওয়া হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।