সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের ৩৬ প্রার্থী—শিক্ষা, সম্পদ ও অভিজ্ঞতায় বৈচিত্র্যের চিত্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের ৩৬ জন নারী প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করলে একটি বহুমাত্রিক চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে—শিক্ষা, সম্পদ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটে রয়েছে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য।

প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। কেউ দীর্ঘদিনের রাজনীতিক, কেউ আবার প্রথমবারের মতো সংসদে আসতে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক দিক থেকেও পার্থক্য স্পষ্ট—কেউ কোটিপতি, আবার কেউ তুলনামূলক সীমিত আয়ে জীবনযাপন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যায় বেগম সেলিমা রহমান (Selima Rahman)-এর ক্ষেত্রে। ৮৫ বছর বয়সী এই নেতা এমএ পাস এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। তার নামে থাকা ৮টি মামলা গত বছর নির্বাহী আদেশে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বার্ষিক আয় ৩৬ লাখ টাকার বেশি এবং মোট সম্পদ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকারও বেশি।

শিরীন সুলতানা, এমএসএস পাস করা ৫৯ বছর বয়সী এই প্রার্থীও অভিজ্ঞ রাজনীতিক। ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তার ১০টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও অতীতে ৮টি মামলায় খালাস পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ৩৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা এবং সম্পদ চার কোটির বেশি।

রাশেদা বেগম হীরা, এমফিল ডিগ্রিধারী ৬৯ বছর বয়সী রাজনীতিক, অষ্টম ও নবম সংসদের সদস্য ছিলেন। তার একটি মামলা ২০২৪ সালে খালাস হয়েছে। বার্ষিক আয় ২৫ লাখ টাকার বেশি এবং সম্পদ প্রায় দেড় কোটি টাকা।

রেহেনা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী এবং হেলেন জেরিন খান—এদের প্রত্যেকেই পূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ বা আইন বিষয়ে ডিগ্রি, এবং সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত বিস্তৃত।

অন্যদিকে নতুন মুখদের মধ্যে সাকিলা ফারজানা, সানসিলা জেবরিন ও সানজিদা ইসলাম তুলির মতো প্রার্থীরা রয়েছেন। কেউ বার এট ল’ করেছেন, কেউ চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, আবার কেউ প্রকৌশল পটভূমি থেকে এসেছেন। তাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদ তুলনামূলকভাবে মাঝামাঝি পর্যায়ে।

নিপুণ রায় চৌধুরী তুলনামূলক তরুণ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখযোগ্য, যিনি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং তার বিরুদ্ধে থাকা ২৩টি মামলা ২০২৫ সালে নিষ্পত্তি হয়েছে। তার বার্ষিক আয় সাড়ে ৩০ লাখ টাকা এবং সম্পদ প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

জীবা আমিনা খান, যিনি স্বশিক্ষিত এবং সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য, তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা চলমান রয়েছে। তার আয় ও সম্পদ তুলনামূলকভাবে কম হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় শামীম আরা বেগম স্বপ্নার ক্ষেত্রে, যার চলতি অর্থবছরে আয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা—এর বেশিরভাগই জমি বিক্রি থেকে এসেছে। তার সম্পদ প্রায় ৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে মানসুরা আক্তারের মতো প্রার্থীরা আছেন, যাদের সম্পদের পরিমাণ মাত্র কয়েক লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। একইভাবে মোছা. সুরাইয়া জেরিন বা সেলিনা সুলতানার মতো প্রার্থীদের আয়ও তুলনামূলকভাবে কম।

সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের এই ৩৬ নারী প্রার্থীর তালিকা একটি বিস্তৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে—যেখানে অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও সম্পদের ভিন্নতা একসঙ্গে অবস্থান করছে।