১০০ টাকার রিচার্জে ৩৮ টাকার কর ‘অযৌক্তিক’—টেলিকম খাতে কর কমানোর ইঙ্গিত

মোবাইল ফোনে ১০০ টাকা রিচার্জ করলেই বড় অংশ কর হিসেবে কেটে নেওয়ার বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ (Rehan Asif Asad)। তিনি জানিয়েছেন, গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে এত বেশি কর কেটে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ খাতে কর ও ভ্যাট কমাতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে আয়োজিত টেলিকম নীতিমালা বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি বর্তমান কর কাঠামো নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে, ভবিষ্যতে এই খাতে পরিবর্তন আসতে পারে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণকে ফাইভজি সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি অন্তত ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, গ্রাহকরা অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত মানের সেবা পাচ্ছেন না—যা তিনি সরকারের একটি ব্যর্থতা হিসেবেই স্বীকার করেন।

বর্তমান কর ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এর সঙ্গে কার্যকর ভ্যাট ১৮ শতাংশ, সারচার্জ ১ শতাংশ এবং অন্যান্য কর যোগ হয়ে আগে ১০০ টাকার রিচার্জে প্রায় ৫৪ টাকা কর দিতে হতো।

এরপর গত বছরের জানুয়ারিতে আরও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় করের বোঝা আরও বেড়ে যায়। ফলে বর্তমানে ১০০ টাকা রিচার্জে ৫৬ টাকার বেশি কর পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের, যা প্রায় ১৮ কোটি ৮৭ লাখ সিম ব্যবহারকারীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা জোরালো হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রাহকবান্ধব টেলিকম সেবা নিশ্চিত করতে কর কমানোর উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।