যুদ্ধ পরিচালনা ও পৃথিবীর সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের সরাসরি ‘চোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পোপ লিও (Pope Leo)। তিনি বলেছেন, এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বকে একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত করছে এবং মানবজাতির নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকীতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা চেরনোবিলের ৪০ বছর পূর্তি পালন করছে ইউক্রেন (Ukraine)। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান চার বছরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই স্মরণ অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন নতুন করে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
সাপ্তাহিক অ্যাঞ্জেলুস প্রার্থনার পর দেওয়া বক্তব্যে পোপ লিও বলেন, চেরনোবিল দুর্ঘটনা মানবজাতির সম্মিলিত চেতনায় গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি কঠিন শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী প্রযুক্তির ব্যবহার মানবতার জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি তা বড় ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা জরুরি।
সম্প্রতি আফ্রিকার চারটি দেশ সফর শেষে ফিরে পোপ লিও বলেন, তিনি আশা করেন—সব পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীলতা বজায় থাকবে, যাতে পারমাণবিক শক্তি কেবল জীবন ও শান্তির পক্ষে ব্যবহৃত হয়, ধ্বংসের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, “যারা পৃথিবীর সম্পদ লুট করে, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালায় বা যেকোনোভাবে অশুভ শক্তিকে উসকে দেয়, তারা আমাদের সবার কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের সম্ভাবনা কেড়ে নিচ্ছে।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পোপ লিও সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার অবস্থান নেওয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর সমালোচনার মুখেও পড়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


