যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হ’\ত্যা: আদালতের নথিতে উঠে এলো নৃশংসতার বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (Jamil Ahmed Limon) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (Nahida Sultana Brishti)-কে হ’\ত্যার ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে আদালত। তারা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (University of South Florida—USF)-এর শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাম্পা বে টোয়েন্টিএইট (Tampa Bay 28)-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে লিমনকে হ’\ত্যার পর তার মরদেহ পলিথিনের ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়। আদালতের নথিতেও এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

এদিকে বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চালাতে গিয়ে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস (Hillsborough County Sheriff’s Office) একটি স্থানীয় জলাশয় থেকে মানুষের লাশ উদ্ধার করে। তবে সেটি বৃষ্টির কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশটির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার অফিস।

এই জোড়া হ’\ত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া লিমনের রুমমেট, ২৬ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পরিকল্পিত হ’\ত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তার বাসার ভেতরেই দুজনকে হ’\ত্যা করা হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে লিমন ও বৃষ্টিকে হ’\ত্যা করেন। এরপর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করতে বিভিন্ন ক্লিনিং সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। আগে থেকেই কিনে রাখা বড় কালো আবর্জনার পলি ব্যাগে ভরে লিমনের মরদেহ তিনি ফেলে আসেন হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের উত্তর পাশে।

গোয়েন্দারা যখন ওই কালো ব্যাগটি উদ্ধার করেন, তখন সেখান থেকে তীব্র পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়, নিহতদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ট্র্যাশ কম্প্যাক্টরে ফেলে দেন আবুগারবিয়েহ। সেখানে পাওয়া রক্তের নমুনা থেকে দুজনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা।

লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে দেখা গেছে, লিমন ও বৃষ্টির মোবাইল ফোনের কাছাকাছি এবং মরদেহ ফেলে আসার স্থানে হিশামের ফোনের উপস্থিতি ছিল। এমনকি তার ফোন ব্যবহার করে অনলাইনে হ’\ত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনা এবং লাশ গুমের উপায় নিয়ে ChatGPT (ChatGPT)-এর সঙ্গে কথোপকথনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।