২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত চ্যারিটি অরগনাইজেশন ‘আনন্দ মেলা’র ব্যানারে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে, হলিউড সাইন সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। এবারের আয়োজন আগের যেকোনো বছরের তুলনায় আরও বেশি বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
‘আনন্দ মেলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও খান মোহাম্মদ আলী (Khan Mohammad Ali) জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ২৬ জুলাই বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা (Bobita)-কে ‘আনন্দ মেলা’ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেবেন।
এই সম্মাননা প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোনো বড় সংগঠন থেকে এবারই প্রথম তিনি আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। তিনি জানান, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি সংগঠন তাকে এমন সম্মাননা দিতে চাইলেও নানা কারণে সময় মেলেনি।
তিনি বলেন, ‘ডিসট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল-এর গুড উইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সময় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গিয়েছি, সেখানকার বাংলাদেশিরা আমাকে সম্মানিত করেছেন। তবে আনন্দ মেলার এই সম্মাননা আমার জন্য সত্যিই বিশেষ। আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই খান মোহাম্মদ আলী এবং তার টিমকে, যারা আমাকে এই সম্মানে ভূষিত করতে যাচ্ছেন। সমন্বয়ক হিসেবে সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীনও আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমার বিশ্বাস, হলিউডের পাশে বাংলাদেশিদের এই আয়োজন আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরবে।’
অন্যদিকে আয়োজক খান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ববিতা আপা আজীবন সম্মাননা গ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন—এটা আমাদের জন্য বিশাল অর্জন। তার উপস্থিতির খবরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। তাকে ঘিরে আমাদের বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করছি।’
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ টেক্সাসে ‘ববিতা ডে’ হিসেবে একটি দিন উদযাপিত হয়ে আসছে। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একুশে পদক (Ekushey Padak)-এ ভূষিত হয়েছেন এই গুণী অভিনেত্রী।
সব মিলিয়ে, হলিউডের পাদদেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শুধু একটি অ্যাওয়ার্ড শো নয়—বরং প্রবাসে বসেও বাংলাদেশি সংস্কৃতির শক্তিশালী উপস্থিতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।


