ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এক ভয়াবহ ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্যসহ এক প্রতিবেশী নি’\হত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক দশটার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা (৪০), স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মোল্লার ছেলে এবং ফরিদপুর যক্ষ্মা হাসপাতালে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন, আর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নি’\হতরা হলেন—আকাশের দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুপু সালেহা বেগম (৫৫) এবং প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃ’\ত্যু হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় আকাশ প্রথমে তার দাদি ও ফুপুকে কোদাল দিয়ে আক্রমণ করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আক্রমণকারী তখন তার দিকেও ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকেও নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কোপ দিয়ে হ’\ত্যা করে।
এই ঘটনায় রিয়াজুল ইসলাম নামে আরেক প্রতিবেশী গুরুতরভাবে আ’\হত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রাজ্জাক শেখ জানিয়েছেন, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। মাঝে মাঝে তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠত, যদিও বেশিরভাগ সময় তাকে স্বাভাবিকই মনে হতো। তিনি আরও জানান, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে আকাশের বিয়ে হয়নি এবং তার চাকরিটিও আত্মীয়তার সূত্রে পাওয়া।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য চিরুনি অভিযান চলছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, রাত পৌনে বারোটার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
হঠাৎ এমন সহিংস ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


