পুতিনের কাছে খামেনির বার্তা পৌঁছে দিলেন আরাগচি—ইরান-রাশিয়া কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)-এর কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি (Mojtaba Khamenei)-এর বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Abbas Araghchi)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই বার্তা হস্তান্তর করেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর থেকে মস্কো ও তেহরান নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। বৈঠকে পুতিন বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় রাশিয়া সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি রাশিয়ার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার এই অবিচল ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র অনুযায়ী, শিগগিরই রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব—যার মধ্যে পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ (Sergey Lavrov) রয়েছেন—একটি বিশেষ বৈঠকে বসবেন। সেখানে মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।

ক্রেমলিন (Kremlin) জানিয়েছে, তারা এই সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভিন্ন দাবি রয়েছে। তাদের মতে, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন সরবরাহে সম্মত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক স্থাপনার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে তারা দাবি করছে। তবে এসব বিষয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন অবস্থান বজায় রেখেছে।

সূত্র: আল জাজিরা